লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার থেকে রায়পুর হয়ে রামগঞ্জ শহর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের মধ্যে দালালবাজার থেকে মীরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সড়কটির এ অংশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন, আর বাকি অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলজিইডির আওতাধীন অংশে বিশেষ করে চৌধুরীবাজার, কাফিলাতলী থেকে মীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কে অসংখ্য গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙা কার্পেটিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। সড়কটির দুই পাশে অন্তত ৮টি সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৪টি বড়-ছোট বাজার রয়েছে। প্রতিদিন রায়পুর, রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে এবং বর্ষাকালে কাদা-পানিতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও পানি জমে থাকা খানাখন্দে যানবাহনগুলো হেলেদুলে চলছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। সাগর্দি গ্রামের সমাজকর্মী বেলাল হোসেন বলেন, “রাস্তায় এত গর্ত যে অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার থেকে পণ্য আনতে এখন কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়। অনেক অটোচালক এই পথে আসতেই চান না।” রায়পুর ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকার কাজেরদিঘিরপাড় সমাজকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনায় বই-খাতা নষ্ট হয়, অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারে না। শিক্ষক ও চাকরিজীবীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন।” স্থানীয় পরিবহনচালক মোঃ হাসিব ও সজল হোসেন জানান, “সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ যেতে দেড় থেকে ২ ঘণ্টা লাগে। যাত্রীদেরও বাড়তি ভাড়া দিতে হয়।” সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, “অর্থ সংকটের কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। গত বন্যা ও অতিবৃষ্টিতেও সড়কটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সড়কটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”