দলের দুঃসময়ে নিজের আয়ের একমাত্র সম্বল নারিকেল গাছ বন্ধক (কট) রেখে প্রিয় নেতার নির্বাচনী প্রচারে অর্থ জুগিয়েছিলেন। রাজনীতির মাঠে নিবেদিতপ্রাণ সেই ত্যাগী কর্মী মো. পারভেজ (৪০) অবশেষে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মেনে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। তার মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এর আগে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত পারভেজের উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান তাকে নগদ এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠান। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ই ঘটে মর্মান্তিক এই মৃত্যু। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. পারভেজ পেশায় একজন প্রান্তিক কৃষক ছিলেন। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিয় নেতা আশরাফ উদ্দিন নিজানের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে নিজের আয়ের প্রধান উৎস বাড়ির সব নারিকেল গাছ বন্ধক রেখে সেই অর্থ নির্বাচনী কাজে ব্যয় করেছিলেন। তার এই আত্মত্যাগ সে সময় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। গত দুই মাস ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন পারভেজ। চার মাস বয়সী এক দুগ্ধপোষ্য সন্তানসহ চার কন্যাসন্তানের জনক পারভেজের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান প্রথমে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আরও এক লাখ টাকা অনুদান দিয়ে তাকে ঢাকার জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান। পারিবারিক সূত্র জানায়, হাসপাতালে ভর্তির পর পারভেজের সঙ্গে থাকা তার এক চাচা ওষুধ কিনতে বাইরে যান। ফিরে এসে তিনি পারভেজকে আর খুঁজে পাননি। হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় ঢাকার একটি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। হাসপাতাল থেকে ক্যানসার আক্রান্ত পারভেজের নিখোঁজ হওয়ার খবর বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। অবশেষে গতকাল রাজধানীর একটি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে স্বজনরা ঢাকা মেডিকেলের মর্গে গিয়ে সেটি পারভেজের বলে শনাক্ত করেন। পারভেজের আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে কমলনগরসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় কর্মীর মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান। তার সার্বিক সহযোগিতায় পারভেজের মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ১০টায় পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। চরকাদিরা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিব বলেন, "পারভেজ ভাইয়ের মতো নিঃস্বার্থ কর্মী বর্তমান রাজনীতিতে বিরল। আজ তাকে হারিয়ে আমরা একজন নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে হারালাম। শেষ মুহূর্তে আমাদের নেতা হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান যেভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।"