লক্ষ্মীপুরের বিসিক শিল্পনগরীতে একটি ভেজাল ঘি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার ও কারিগর জিল্লাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান পলাতক রয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল হোসেন সদর উপজেলার চররুহিতা গ্রামের বশির উল্যার ছেলে। তিনি আদালতকে জানান, মালিক তার আপন ভাই হলেও তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে মাসিক বেতনে চাকরি করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কার্টুন ঘি সরবরাহের অর্ডার নিয়েছিল। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য বিভাগের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয়। প্রতিটি কার্টুনে ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি করে ঘির কৌটা ছিল। পরে ভেজাল ঘি উৎপাদনের দায়ে জিল্লাল হোসেনকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলে তিনি মুক্তি পাবেন। অভিযান চলাকালে জিল্লাল হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে স্বীকার করেন, সয়াবিন তেল, ডালডা ও ঘির ফ্লেভার মিশিয়ে তারা ঘি তৈরি করতেন। ৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি কৌটা প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকায় বাজারে বিক্রি করা হতো। যদিও অভিযানের সময় কারখানায় সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতেই জব্দ করা নকল ঘি ধ্বংস করা হয়। জেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক সুমধু চক্রবর্তী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মার্জারিন উৎপাদনের অনুমোদন নিলেও দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ঘি তৈরি করে আসছিল। এসব পণ্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। ঘির কৌটায় নগদ টাকার কুপন সংযুক্ত করে বাবুর্চিদের মাধ্যমে বাজারজাত করা হতো। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব ঘি উৎপাদন করা হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, বিসিক শিল্পনগরীতে ‘আবু তাহের ছানা কোম্পানি’ নামে জমি বরাদ্দ নিলেও বর্তমানে ‘তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে ভেজাল ঘি উৎপাদন করা হচ্ছিল। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মান্নান পলাতক রয়েছেন। তবে জিল্লাল হোসেন উৎপাদনসহ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তাই ভেজাল ঘি উৎপাদনের দায়ে তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।