লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, সংঘর্ষ ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান, নারীসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রশীদ মোল্লার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবদুর রশীদ মোল্লার সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে তাঁর প্রথম সংসারের মেঝ ছেলে ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মোল্লার। সোমবার রাতে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে মনির হোসেন মোল্লা ও তাঁর ভাই দিদার হোসেন মোল্লাসহ কয়েকজন নারিকেল ও সুপারি পাড়তে গেলে বাধা দেন আবদুর রশীদ মোল্লার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং পেট্রল দিয়ে আবদুর রশীদ মোল্লার শ্যালক আলমগীরের বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। আবদুর রশীদ মোল্লা ৯৯৯ ও ১০২ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বসতঘরটি পুড়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন আহত আবদুর রশীদ মোল্লাসহ চারজনকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় আহত চেয়ারম্যানের স্ত্রী হাজেরা বেগম বাদী হয়ে মনির হোসেন মোল্লা ও তাঁর ভাই দিদার হোসেন মোল্লাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনির হোসেন মোল্লা ও দিদার হোসেন মোল্লা। তাঁদের দাবি, বৃদ্ধ বাবা আবদুর রশীদ মোল্লার সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। কিন্তু অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না। সৎ মা মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের হয়রানি করছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনায় তাঁরাও মামলা করেছেন বলে জানান। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজি বলেন, জমি নিয়ে বাবা ও ছেলেদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা ও ছেলেদের মধ্যে মারামারি, হামলা, সংঘর্ষ ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যানের স্ত্রী হাজেরা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।