প্রকাশ : ... | ... | ...

জাল সনদে চাকরি: লক্ষ্মীপুরে ৪ শিক্ষকের বেতনসহ সরকারি সুবিধার অর্থ ফেরতের নির্দেশ


সংযুক্ত ছবি

জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর জেলার চারজন শিক্ষককে বেতনসহ সরকারি সব সুবিধার অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (DIA) কর্তৃক স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের জাল সনদধারী শিক্ষকদের শনাক্তের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা শাখা থেকে গত ১৫ এপ্রিল জারি করা এক পত্রে ৪৭১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর তালিকা পাঠানো হয়। ওই তালিকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন, কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর নাম রয়েছে। পত্রে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত জাল/ভুয়া সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে অবহিত করতে হবে। তালিকায় লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ ও কমলনগর উপজেলার চারজন শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন— রায়পুর উপজেলার লুধুয়া এম.এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো. মিজানুর রহমান রামগঞ্জ উপজেলার জিয়াউল হক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো. আনোয়ার হোসেন কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট উপকূল কলেজের প্রভাষক (কম্পিউটার) আক্তার হোসেন রামগঞ্জ উপজেলার পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) জান্নাতুল ফেরদৌসী প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত অর্থ ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মো. মিজানুর রহমানের ক্ষেত্রে ৩৯ লাখ ১ হাজার ১১৫ টাকা, মো. আনোয়ার হোসেনের ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৬১৮ টাকা এবং জান্নাতুল ফেরদৌসীর ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫০৫ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ উল্লেখ রয়েছে। তবে হাজিরহাট উপকূল কলেজের আক্তার হোসেনের ক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য টাকার পরিমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে লুধুয়া এম.এম. উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অডিটে তাদের আপত্তি ছিল। নিরীক্ষা শাখা জবাব চেয়েছিল, আমরা এবং প্রধান শিক্ষক জবাব দিয়েছি। তারা আমার সনদকে জাল হিসেবে পায়নি। তবে তালিকায় নাম থাকায় আমাকে আগামী তিন বছরের মধ্যে নতুন করে কোর্স করে সনদ জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, সনদ জাল না হলেও কেন এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জিয়াউল হক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এখনো অধিদপ্তর থেকে জাল সনদের বিষয়ে কোনো চিঠি পাইনি। আমার এনটিআরসি নিবন্ধন রয়েছে।” হাজিরহাট উপকূল কলেজের প্রভাষক আক্তার হোসেন বলেন, “আমার সনদ জাল নয়। আমি নিরীক্ষা শাখাকে জবাব দিয়েছি। যুব উন্নয়ন থেকে সনদ নেওয়া হলেও কেন তালিকায় নাম এসেছে বুঝতে পারছি না।” পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে আমি জবাব দেব।” এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম মিত্র বলেন, “এটি অধিদপ্তরের বিষয়। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এখানে আমাদের কোনো করণীয় নেই।”