তাবারক হোসেন আজাদঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা ওজিউল্লাহ সড়কে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের নিচহরা থেকে চৌধুরী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৩৪০০ মিটার সড়কে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সংস্কারের এক মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে পাথর উঠে যাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক হাত দিয়েই সহজে সড়কের পাথর তুলে ফেলছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অধিকাংশ অংশে বড় আকারের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ছোট পাথর বা ফাইন অ্যাগ্রিগেট সঠিকভাবে মিশ্রণ না করায় কংক্রিটের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পাথর উঠে যাচ্ছে, যা সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। সম্প্রতি কাজ শুরু হলে তারা স্বস্তি পেলেও এখন কাজের মান নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আওতায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দে সড়কটির সংস্কার কাজ পায় মেসার্স ওয়াহিদুর রহমান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটির মেয়াদ চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় আট মাস আগে শুরু হওয়া কাজটি শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করায় মান বজায় রাখা হয়নি। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগে বিল উত্তোলনের জন্যই দ্রুত কাজ শেষ করা হয়েছে, যার ফলে কাজের মান নষ্ট হয়েছে।
শেফালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেন, “এই সড়ক দিয়ে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও হাটবাজারে যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন পর কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি ছিলাম। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, কাজের মান খুবই খারাপ—এক মাসেই পাথর উঠে যাচ্ছে।”
আরেক বাসিন্দা মাহিম খান অভিযোগ করেন, “নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে কাজ করা হয়েছে। অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো খারাপ আচরণ করেছে।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়কের পাশে নির্মিত গার্ডওয়ালেও নিম্নমানের ইট ও দুর্বল পিলার ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক স্থানে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই ফেলে রাখা হয়েছে। গাছ অপসারণকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
এ বিষয়ে এক সমাজসেবক জানান, গার্ডওয়াল নির্মাণে বাধা দূর করতে তিনি নিজ উদ্যোগে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগত অর্থে গাছ অপসারণ করেছেন। এরপরও কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স ওয়াহিদুর রহমান কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ওয়াহিদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কাজটি কিনে নেওয়া সাব-ঠিকাদার ফারুখ হোসেন দাবি করেছেন, কাজ সঠিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে, নিউজ করলেও আমার কিছু হিবেনা।
এদিকে তদারককারী উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সুমন জানান, অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে বিটুমিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।”
রামগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্টদের যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, সড়কের কাজে অনিয়মের বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়ক পুনঃসংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।