লক্ষ্মীপুরের নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় চরচামিতা এলাকার বেগম অজিফা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ভবনে স্থাপিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর ও চন্দ্রগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বাস্তবায়ন। নতুন উপজেলা চালুর ফলে সাধারণ মানুষকে সরকারি সেবা গ্রহণের জন্য দূরবর্তী স্থানে যেতে হবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি ও অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা এখন আরও সহজ ও দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি নতুন উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, নবগঠিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই জনসেবা কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তিনি জনগণকে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রশাসনিক সেবা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, স্থানীয় জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে গত ৪ জুন সরকারি গেজেটের মাধ্যমে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ নামে নতুন উপজেলা গঠন করা হয়। উপজেলার আয়তন ১৩৫ দশমিক ০৮ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৯১ জন এবং সাক্ষরতার হার ৬৫ দশমিক ২০ শতাংশ।
তিনি আরও জানান, জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) অনুমোদনের ভিত্তিতে সদর উপজেলার আওতাধীন ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন এ উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হয়েছে। ইউনিয়নগুলো হলো— বশিকপুর, দত্তপাড়া, চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, চরশাহী, দিঘলী, মান্দারী, উত্তর জয়পুর ও কুশাখালী।
সরকারি গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক সুবিধা বৃদ্ধি, জনসংখ্যার চাপ হ্রাস এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন এ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উপজেলার সীমানা নির্ধারণ, প্রশাসনিক কাঠামো, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ, ইউএনও কার্যালয়, থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও ধাপে ধাপে স্থাপন করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।