নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ করায় এক স্বাধীন গবেষককে আইনি ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তি অঙ্গনে নতুন এক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ‘নাইটমেয়ার ইক্লিপস’ নামে পরিচিত এক গবেষক মাইক্রোসফটের কয়েকটি নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্য প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দেখান, কীভাবে এসব ত্রুটি কাজে লাগানো যেতে পারে। ত্রুটিগুলোর মধ্যে ছিল কম্পিউটারের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও তথ্য সুরক্ষার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার দুর্বলতা।
মাইক্রোসফটের অভিযোগ, গবেষক আগে থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে এসব ত্রুটির বিষয়ে জানাননি। ত্রুটিগুলো ঠিক করার সুযোগ পাওয়ার আগেই সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সাইবার অপরাধীরা সুযোগ পেতে পারে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
মাইক্রোসফট জানায়, তাদের ডিজিটাল অপরাধ দমন বিভাগ এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখবে। প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হবে।
তবে গবেষক নাইটমেয়ার ইক্লিপসের বক্তব্য ভিন্ন। তার দাবি, তিনি আগে মাইক্রোসফটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি সহযোগিতা করেনি। এমনকি নিরাপত্তা ত্রুটি জানানোর জন্য ব্যবহৃত তার হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি জনসমক্ষে ত্রুটিগুলোর তথ্য প্রকাশ করেন। পরে তার অনলাইন হিসাবগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাটি নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মাইক্রোসফটের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের অবস্থান স্বাধীন গবেষকদের নিরুৎসাহিত করবে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্যাটি মোজোরিস বলেন, আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত গবেষকদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে। এতে ভবিষ্যতে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশে আগ্রহ হারাতে পারেন। আরেক নিরাপত্তা গবেষক কেভিন বিউমন্ট বলেন, নিরাপত্তা ত্রুটির কার্যকারিতা দেখানোর জন্য পরীক্ষামূলক তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে দেখানো উদ্বেগজনক।
উল্লেখ্য, প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো দীর্ঘদিনের চর্চা। তবে ত্রুটি প্রকাশের নিয়ম ও গবেষকদের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক এখনও রয়ে গেছে। মাইক্রোসফট ও নাইটমেয়ার ইক্লিপসের এই বিরোধ সেই পুরোনো বিতর্ককেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।