রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রায়পুর সরকারি হাসপাতাল এবং আশপাশের শতাধিক ওষুধের দোকান ও কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিকের বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হয়েছে। এসব বর্জ্য ডোবা ও পুকুরের পানিতে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাসপাতাল সংলগ্ন ডোবা ও পুকুরের পাশে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা বর্জ্য, খাদ্যদ্রব্যের উচ্ছিষ্ট এবং অন্যান্য আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় তা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর মাধ্যমে আশপাশে ও ডোবার পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের সামনে ও মসজিদসংলগ্ন দক্ষিণ পাশে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল, শতাধিক ওষুধের দোকান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ফাস্টফুডের বর্জ্য খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সেখানে হাসপাতালের উচ্ছিষ্ট খাদ্যদ্রব্যও ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্গন্ধে ওই এলাকায় অবস্থান করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল সংলগ্ন আবাসিক এলাকা, পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, মসজিদ এবং বহু বসতবাড়ির কারণে পুরো এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা মিয়াজি বাড়ির মিজান হোসেন বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বিশাল ডোবার পানি বর্জ্যে দূষিত হয়ে গেছে।”
স্কুল শিক্ষক মুকুল হোসেন বলেন,
“বিকেলে হাঁটতে বের হলেও বর্জ্যের দুর্গন্ধে থাকা যায় না।”
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী জহির হোসেন বলেন,
“এত দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করা কষ্টকর। হাসপাতালের সামনেই এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।”
ডোবার পশ্চিম পাশের বাসিন্দা আবদুল খালেক বলেন,
“এই আবর্জনার পাশ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। ডোবার পানি এখন প্রায় বিষাক্ত হয়ে গেছে।”
রায়পুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী বলেন,
“প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ওষুধ দোকানের বর্জ্যের কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।”
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন,
“হাসপাতালের বাইরে মহাসড়কের পাশের ডোবায় বর্জ্য স্তূপ করে রাখা হয়, যা পৌরসভার নিয়মিত অপসারণ করার কথা। কিন্তু তারা তা করছে না। এতে পরিবেশ দূষিত হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“চলতি অর্থবছরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৌরসভাকে প্রায় নয় লক্ষ টাকা কর পরিশোধ করেছে। এরপরও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে লিখিতভাবে পৌরসভাকে জানাবো।”
রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন,
“হাসপাতাল ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এমনভাবে ফেলা হয় যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। ভাঙা কাচ ও সিরিঞ্জের আঘাতে তারা আহত হন।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা সংশ্লিষ্টদের বলেছি বর্জ্য কালো পলিথিনে আলাদা করে রাখতে। এরপরও বিষয়টি সমাধানে আমরা উদ্যোগ নেবো। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও আরও সচেতন হতে হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।