লক্ষ্মীপুরের রায়পুর নতুন বাজার মহিলা কলেজ সড়কে চলমান ড্রেন নির্মাণ কাজ এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেহাল সড়ক দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীরাও ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেন না। বর্তমানে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে একসময় একটি পাকা সড়ক ছিল।
পানি নিষ্কাশনের লক্ষ্যে সড়কে ড্রেন নির্মাণে পৌর শহরের নতুন বাজার থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং উপজেলা মোড় থেকে নর্দমা পর্যন্ত ১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকার দুটি প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছে। তবে ড্রেন নির্মাণের জন্য খনন করে তোলা মাটি রাস্তার পাশেই ফেলে রাখায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃষ্টির পানি ডাকাতিয়া নদীতে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারজুড়ে পানি জমে থাকছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে কাদার স্তূপ। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয় যেন হাল চষা জমি। কোথাও বড় বড় গর্তে জমে আছে নোংরা পানি, আবার কোথাও থিকথিকে কাদায় একাকার হয়ে গেছে পুরো সড়ক।
যানবাহন চলাচলের সময় কাদা ও পানি ছিটকে পড়ছে পথচারীদের গায়ে এবং আশপাশের বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এর ফলে বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে কাজ শুরু হলেও সঠিক তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে এই দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত খননকৃত মাটি অপসারণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সড়কের পাশে মাটি রাখা হয়েছে। বর্ষার কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। আমরা ঠিকাদারকে দিয়ে দ্রুত মাটি অপসারণ ও কাজ সম্পন্ন করে দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করছি।