লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বর্ডার বাজার এলাকায় সড়কের তোরণের নিচেই দীর্ঘ ৮ বছর ধরে গড়ে উঠেছে ময়লার ভাগাড়। এতে একদিকে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে তীব্র দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বর্ডার বাজার এলাকায় দুই জেলার সীমানায় একটি তোরণ রয়েছে। ফরিদগঞ্জ থেকে রায়পুরে প্রবেশের সময় তোরণে লেখা থাকে ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’, আর রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জে যাওয়ার সময় দেখা যায় ‘ধন্যবাদ রায়পুর উপজেলা’। অথচ এই স্বাগত জানানোর স্থানই এখন বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৮ বছর ধরে রায়পুর পৌরসভা ও আশপাশের হাটবাজারের বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। এতে সড়কের পাশের জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে এবং আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রায়পুর পৌরসভা সূত্র জানায়, প্রতিদিন পৌর এলাকা ও বিভিন্ন হাটবাজার থেকে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে এসব বর্জ্য বর্ডার বাজার এলাকার উত্তর-পূর্ব পাশে সড়কের ধারে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ আলী বলেন, “এটি দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকা। একদিকে স্বাগত, অন্যদিকে বিদায়—কিন্তু এখন বর্জ্যের কারণে পুরো এলাকা নোংরা হয়ে গেছে।”
মনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ফেলার কারণে পাশের জলাশয় ভরাট হয়ে গেছে এবং প্লাস্টিক বর্জ্য খালের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ আরও বাড়াচ্ছে।
শামছুন্নাহার নামে এক গৃহবধূ বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরতে হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গন্ধে এ সড়ক দিয়ে চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
রায়পুর পৌরসভার কঞ্জারভেন্সি পরিদর্শক রোমান পাঠান জানান, পৌরসভার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এবং জমির অভাবে নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বর্ডার বাজার এলাকায় বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৮ বছর ধরে এখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এবং এটি পূর্বের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং দ্রুত একটি স্থায়ী ডাম্পিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সীমান্ত এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।