লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব আফসার উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেবায় কমিশন নেওয়া, জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাকে রায়পুর উপজেলার ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কমলনগর উপজেলার ৫ নম্বর চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়।
রায়পুরে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
এর আগে গত ১৮ আগস্ট সচিবের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই বিষয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। এতে সচিব আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্যরা। সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলার মধ্যেই তাকে বদলি করা হলো।
স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমানের সই করা অফিস আদেশে এ বদলির কথা জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ।
অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, সচিব আফসার উদ্দিন বিভিন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশন নিতেন। জন্মনিবন্ধন করতেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হতো। এ ছাড়া ‘শূন্য বয়সের বাচ্চা’ দেওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। মাতৃত্বকালীন ভাতা, জেলেদের বরাদ্দের চাল, গ্রাম পুলিশের ট্যাক্স, ইউপি সদস্যদের সম্মানী এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টাকা বা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবুল হাসেম বলেন, তাদের অভিযোগের পর সচিবকে বদলি করা হয়েছে। তবে বদলি হলেও অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টাকার বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি।
মহিলা ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম বলেন, সচিব আফসার উদ্দিনের বদলিতে তারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, কীভাবে সচিবের বদলি হয়েছে, তা তার জানা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। সেসব অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে বুধবার বিকেলে স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, “এটা অফিসিয়াল প্রসিডিউরের অংশ। মাঝে মাঝে জনস্বার্থে আমরা এ ধরনের বদলি করে থাকি।”
আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী জনস্বার্থে বদলি করেছি।”