দিনের বেলায় তেমন দেখা যায় না। তবে সন্ধ্যা নামলেই শত শত অদ্ভুত প্রজাতির শামুক ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির আঙিনা, রাস্তা, দেয়াল, গাছের পাতা—এমনকি ঘরের আশপাশেও। কয়েক মাস ধরে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের সমসেরাবাদ এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, এসব শামুকের বিষাক্ত লালা ও ফসলের ক্ষতির কারণে দিন দিন বাড়ছে উদ্বেগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অন্ধকার নামতেই শুরু হয় শামুকগুলোর বিচরণ। পানিতে নয়, ডাঙাজুড়ে ধীরগতিতে চলাফেরা করলেও দ্রুত বংশবিস্তার করছে তারা। রাত যত গভীর হয়, ততই সক্রিয় হয়ে ওঠে এই শামুক।
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনষা বাড়ি, দুর্গাবাড়ি, কালীবাড়ি, সিঠা ডাক্তার বাড়িসহ অন্তত ১০টি এলাকায় কয়েক মাস ধরে এসব শামুকের উপদ্রব বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শামুকগুলো সবজি ও ফলগাছের কচি পাতা ও লতা খেয়ে ফেলছে। এতে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করা অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয়দের ধারণা, ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকেই এ এলাকায় এই প্রজাতির শামুকের দেখা মিলছে। এর আগে এমন শামুক কখনও দেখা যায়নি বলে দাবি তাদের। অনেকের আশঙ্কা, শামুকের লালা শরীরে লাগলে চুলকানিসহ ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে।
শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, রাতে চলাচল করতেও ভীত হয়ে পড়েছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। কেউ পলিথিনে ভরে শামুকগুলো দূরে ফেলে দিচ্ছেন, আবার কেউ বিভিন্ন উপায়ে এগুলো দমন করার চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, এটি কৃষির জন্য ক্ষতিকর এক ধরনের শামুক। এর উপদ্রব কমাতে রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি হাতে সংগ্রহ করে দূরে ফেলে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া ডিমের খোসা বা কাঠের গুঁড়ো ছিটিয়ে রাখলেও শামুকের চলাচল কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
রহস্যময় এ শামুকের বিস্তার এখন লক্ষ্মীপুরের সমসেরাবাদ এলাকার আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। ফসলের ক্ষতি ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।